ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

“সাতক্ষীরাতে হবে ভ্রমণ…, স্থলপথে সুন্দরবন….. ” (সাতক্ষীরা ভ্রমণ/ পর্ব-২)

সুন্দরবন, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের দক্ষিণ – পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগেরে এই সাতক্ষীরা জেলাটি সত্যিকারূপে যেন একটি সাজানো সবুজের বাগান। বাংলাদেশের পতাকার লাল বৃত্তের চারিদিকে যেমন সবুজে ঘেরা, তেমনি পুরো সাতক্ষীরা জেলাটিও সবুজ গাছগাছালিতে ঘেরা। আবহাওয়াগত ও পরিবেশগত কারণে শীতকালে সাধারণত প্রকৃতিতে কিছুটা শুষ্ক ভাব পরিলক্ষিত হয়। আর শীতকালেই আমি ও আমার বন্ধু (রণি) সাতক্ষীরা ঘুরতে যাই। শীতকালীন সময়েও সাতক্ষীরার এই সবুজ সৌন্দর্য আমাকে করেছে মুগ্ধ। তাহলে কল্পনা করাই যেতে পারে যে, বর্ষা মৌসুমে যখন প্রকৃতি আবার তার প্রাণ ফিরে পাবে তখন তার সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে আরো বহুগুণে।

সবুজ গাছগাছালিতে পরিবেষ্টিত সাতক্ষীরা জেলাতে ঢাকা থেকে সরাসরি ভ্রমণের একমাত্র পরিবহন ব্যবস্থা হচ্ছে বাস বা নিজস্ব পরিবহন। পানিপথ অথবা রেলপথ কোনো মাধ্যমেই ঢাকা থেকে সরাসরি সাতক্ষীরা যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে খুব শীঘ্রই ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা যাওয়ার রেলপথের কাজ শুরু হবে। আর এই রেল সংযোগ হয়ে গেলে রেলপথে ঢাকা থেকে সরাসরি সাতক্ষীরা যাওয়া যাবে। অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলাতে যেহেতু কোনো বিমানবন্দর নেই তাই আকাশপথেও সরাসরি সাতক্ষীরা যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে আকাশপথে হেলিকপ্টারে করে সাতক্ষীরা যাওয়া যেতে পারে। আজকের পর্বটিতে মূলত আমি ও আমার বন্ধু কিভাবে সাতক্ষীরা জেলাতে ভ্রমণ করেছি, কোথায় ছিলাম, কি কি খেয়েছি আর কোথায় কোথায় ঘুরেছি সে বিষয়গুলো নিয়েই লিখব। আর আপনারা কিভাবে সাতক্ষীরা জেলা ভ্রমণ করতে পারেন বা কোন কোন মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলায় যেতে পারেন, কোথায় থাকতে পারেন, কোথায় কোথায় ঘুরতে পারেন এবং কিরকম খরচ হতে পারে ইত্যাদি বিষয় গুলো নিয়ে পরবর্তীতে অন্য আরেকটি পর্বে লেখার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ্।

সাতক্ষীরা জেলা নিয়ে আমার লেখা প্রথম পর্বেই বলেছিলাম যে, আমাদের এবারের সাতক্ষীরা জেলা ভ্রমণটি ছিল সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত একটি ভ্রমণ। আর তাই আমরা প্রথমে বাসে যাওয়ার কথা চিন্তা করলেও পরবর্তীতে ৩১ জানুয়ারি ২০২১ বিকেলের দিকে বের হয়ে বাসের টিকেট কাটার আগে সরাসরি ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশনে যাই। ঠিক সন্ধ্যা ৭.৩০ এ আমরা বিমানবন্দর রেল স্টেশনে এসে পৌঁছাই। প্রায় এক ঘন্টার মতো বিমানবন্দর রেল স্টেশনের সামনে ঘুরাঘুরি করার পর স্টেশনের ভিতরে ঢুকে টিকেট কাউন্টার গুলোতে গিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করি। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি ও কাউন্টার গুলোতে জিজ্ঞেস করে করে আমরা নির্দিষ্ট কাউন্টারের সামনে গিয়ে লাইনে দাঁড়াই। লাইনে আমার সামনে মাত্র দুই জন লোক থাকায় টিকেট কাটতে খুব বেশি সময় লাগেনি। রাত ঠিক ৮.৪৯ এ নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে ‘চারশো পঞ্চান্ন টাকা’ করে ‘নয়শো দশ টাকা’ দিয়ে দুই জনের জন্য বেনাপোল এক্সপ্রেসে ১ ফেব্রুয়ারী ২০২১ রাত ১১.১৫ এর ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশন থেকে যশোরের দুটি টিকেট ক্রয় করি। আমাদের আসনের ধরন ছিল শোভন চেয়ার, বগি ছিল ঘ(GHA) আর সিট নাম্বার ছিল ৭১-৭২। আমাদের বাসে যাওয়ার চিন্তা থাকলেও, যেহেতু লং জার্নি এবং বাসের চেয়ে ট্রেনের ভ্রমণটাই আরামদায়ক হবে তাই দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রেনের টিকেট ক্রয় করি। অন্যদিকে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত রেল সংযোগ না থাকার কারণে আমাদেরকে বেনাপোল এক্সপ্রেসে ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশন থেকে যশোরের টিকেট ক্রয় করতে হয়। যশোর রেল স্টেশনে নেমে সেখান থেকে আমরা বাসে করে সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওনা দিব।

যেকোনো ট্যুরের আগেই মনের ভিতরে একটা উত্তেজনা বা ভালো লাগার অস্থিরতা কাজ করতে থাকে যে কখন রাত শেষ হবে, কখন সূর্য উদিত হবে আর কখন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিব। আবার কাপড় সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছানোরও একটা ব্যাপার থাকে। ভ্রমণের উত্তেজনায় রাতে সাধারণত আমার ঘুম হয় না, তাই আমি না ঘুমিয়ে রাতের বেলাতেই কাপড় – চোপড় সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছানোর কাজটা সম্পন্ন করে রাখি যাতে যাওয়ার আগে তাড়াহুরো করতে না হয়। রাতে না ঘুমানোর ফলে ভোরের দিকে বেশ ঝিমুনি আসে তাই দেরি না করে ফজরের নামাজ পড়েই সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়ি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button