ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

“সাতক্ষীরাতে হবে ভ্রমণ…, স্থলপথে সুন্দরবন….. ” (সাতক্ষীরা ভ্রমণ/ পর্ব-১)

সুন্দরবন, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাংলাদেশ।

সাধারণত আমি কোন স্থান থেকে ঘুরে আসার পরই নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্নজনের লেখনী, বই ও উইকিপিডিয়া থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিজের মনের মাধুরি মিশিয়ে আবেগ ও অনুভূতি দিয়ে লেখার চেষ্টা করে থাকি। তবে এবার তার ব‍্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে। এবার স্বশরীরে ভ্রমণের পূর্বেই বিভিন্ন ম‍াধ‍্যম হতে স্বল্প কিছু তথ্য – উপাত্ত সংগ্রহ করে ভ্রমণপূর্ব অবস্থা নিয়ে লিখতে বসে পড়েছি। আর তাই খুবই সংক্ষিপ্ত আকারে এলোমেলো ভাবে কিছু লেখার চেষ্টা করছি।

অপরিকল্পিত এলোমেলো লেখার মত এবারের ভ্রমণও অনেকটা অপরিকল্পিত বলা চলে। অপরিকল্পিত বলার কারণ হচ্ছে – সাধারণত মানুষজন আগে থেকেই কম বেশি চিন্তা বা পরিকল্পনা করে রাখে যে ভ্রমণে গিয়ে কোথায় থাকবে, কোথায় কোথায় ঘুরবে, কত খরচ হতে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের এসব কোন পরিকল্পনাই করা হয়নি, আর তাই এবারের ভ্রমণটিকে একটি অপরিকল্পিত ভ্রমণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছি। পরিকল্পনার মধ্যে শুধু এতোটুকুই আছে যে ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ রাতে সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওনা দিব। সুতরাং টিকেট কাটার আগে পর্যন্ত যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তবে আসার আলো হচ্ছে, কিছুক্ষণ আগেই আমার ভ্রমণ সঙ্গীর সাথে মোবাইল কথা হয়েছে। কিছু সময়ের মধ্যেই টিকেট কাটার জন্য বের হব, ইনশাআল্লাহ। সরাসরি সাতক্ষীরা যাওয়ার একমাত্র পরিবহন ব্যবস্থা হচ্ছে বাস। যেহেতু লংজার্নি এবং বাস করে যেতে প্রায় আট – বারো ঘণ্টার মত সময় লাগবে সেহেতু বাসের চেয়ে ট্রেন জার্নিটাই আরামদায়ক হবে বলে আমার মনে হয়। আবার ট্রনে করে যেহেতু সরাসরি সাতক্ষীরা যাওয়া যায় না তাই ট্রেনে গেলে যশোর নামতে হবে এবং এই সুযোগে স্বল্প পরিসরে যশোর ভ্রমণটাও হয়ে যাবে। দেখা যাক বাকিটা টিকেট কাটতে যাওয়ার সময় ভ্রমণ সঙ্গীর সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশের পতাকার বিশাল অংশ জুড়ে যেমন সবুজ, তেমনি সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে রয়েছে এই সবুজেরই এক বিশাল ঝলক। গুনী ও কীর্তিমান ব‍্যক্তিত্বের এক পূণ্যভূমি হচ্ছে সাতক্ষীরা জেলা। প্রাচীন এই নগরীতে রয়েছে ইতিহাসের অনেক সাক্ষী ও নিদর্শন। সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে ঘুরে বেড়ানোর মত রয়েছে অনেকগুলো দৃষ্টিনন্দন ভ্রমণ কেন্দ্র ও প্রচীন স্থাপনা। সেই সাথে রয়েছে সাতক্ষীরা জেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বাংলাদেশ ও ভারতের নিরবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডে অবস্থিত ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত সমুদ্র উপকূলবর্তী লোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন “সুন্দরবন”। সুন্দরবন বাংলাদেশের পাঁচটি জেলা জুড়ে থাকলেও একমাত্র সাতক্ষীরা জেলা দিয়েই স্থলপথে সুন্দরবন দেখার সুযোগ মিলে। কেবলমাত্র সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার মুন্সিগঞ্জ থেকেই সরাসরি সুন্দরবন দেখা যায়। ঠিক দেখতে একেবারে বাংলাদেশের পতাকার লাল বৃত্তের চারিদিকে ঘিরে থাকা সবুজ রঙের মতো সবুজে আচ্ছাদিত বিস্তৃত বনভূমি।

১৪৮৯.৭১ বর্গ মাইলের (উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী) সাতক্ষীরা জেলায় অগণিত দর্শনীয় স্থান থাকলেও আমরা মূলত শ্যামনগর ও দেবহাটার আশেপাশের জায়গাগুলো ঘুরে দেখব। আমাদের ঘুরে দেখার তালিকায় যে স্থানগুলো রয়েছে সেগুলো হলো – আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার – মুন্সিগঞ্জ, ভোমরা স্থল বন্দর, শ্যামনগর জমিদার বাড়ি, দেবহাটা জমিদার বাড়ি, বনবিবির বটগাছ – দেবহাটা, শ্যামনগর উপজেলার ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ, রূপসী ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট – দেবহাটা, তেঁতুলিয়া মসজিদ – তালা, খাঁন বাহাদুর আহসানউল্লাহ সমাধি কমপ্লেক্স – নলতা ইত্যাদি। ও আপনাদেরতো বলতেই ভুলে গিয়েছি যে, লেখার মাঝে উঠে গিয়ে আমি আর আমার ভ্রমণ সঙ্গী গিয়ে টিকেট কেটে নিয়ে আসছি। আর আমাদের এবারের ভ্রমণ হচ্ছে রেলপথে। ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত সরাসরি রেলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমরা বেনাপোল এক্সপ্রেস এর যশোর রেলস্টেশনের টিকেট কিনেছি। এই সুযোগে আমরা যশোর রেলস্টেশন নেমে স্টেশনের আশেপাশে ঘুরে দেখার চেষ্টা করব। তারপর যশোর বাস টার্মিনালে গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওনা দিব। সুতরাং আজকে এ পর্যন্তই – বিস্তারিত লেখা স্বশরীরে সাতক্ষীরা ঘুরে এসে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আপনাদের সামনে তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ্। সে পর্যন্ত আমাদের জন্য দোয়ার দরখাস্ত রইল। আপনাদের জন্যও রইল অনেক অনেক শুভকামনা। ধন্যবাদ সবাইকে…।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button