ইংরেজি ‘Learn’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে – শেখা, শিক্ষা করা বা জ্ঞান অর্জন করা। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী Learn শব্দটি একটি ক্রিয়া পদ আর ইংরেজি গ্রামার অনুযায়ী Learn শব্দটি হচ্ছে Verb. ‘Learn’ শব্দটি এসেছে ইংরেজি ‘Leornian’ শব্দ থেকে, যার উৎপত্তি হয় পশ্চিম জার্মানিতে। Learn শব্দটি জার্মান ‘ Lernen ও Lore শব্দের সাথে সম্পর্কিত।

বাংলা ও ইংরেজিতে আরও অনেকগুলো শব্দ দ্বারা Learn এর শাব্দিক অর্থ প্রকাশ করা যায়। বাংলা শাব্দিক অর্থ গুলো হলো – শিখা, অধ্যয়ন করা, জানা, পড়া করা, দক্ষতা অর্জন করা, অবগত হওয়া ইত্যাদি। ইংরেজিতে – Study, Become acquainted, Get, Experience, Prepare, Exercise, Acquire ইত্যাদি শব্দ গুলো দ্বারা Learn এর শাব্দিক অর্থ প্রকাশ করা যায়।

সুতরাং উপরের আভিধানিক ও শাব্দিক অর্থগুলো পর্যালোচনা করে বলা যায় যে – জ্ঞান, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা অর্জনের প্রক্রিয়াই হচ্ছে Learn বা শেখা। অর্থাৎ যে উপায়ে কোন কিছু জানতে, বুঝতে ও শিখতে পারা যায় তাকে Learn বা শেখা বলা হয়।
আরেকটু বিশদভাবে বলতে গেলে, কোন বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য বা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য শিক্ষা গ্রহণ বা জ্ঞান আহরণের প্রক্রিয়াকে Learn বা শেখা বলে। যদি ইংরেজিতে বলতে চাই তাহলে বলতে হবে – In which process to do something we can acquire knowledge, skill or experience is called Learn.

After above discussion it can be say that, ‘The process of gaining knowledge or skill for knowing, learning or doing something is known as Learn’.

যুগে যুগে সময় ও কাল ভেদে পদ্ধতিগত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এই ক্ষেত্রে। কিন্তু শেখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা কখনোই কম ছিল না। প্রাচীন যুগ বলি, মধ্য যুগ বলি আর আধুনিক যুগই বলি না কেন সকল যুগেই শেখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিহার্য। সময়, কাল ও যুগের পরিক্রমায় শেখার বা শিক্ষা করার ধরন, প্রকারভেদ ও স্তরগুলো ছিল বিভিন্ন রকমের। শুধুমাত্র পাঠ্য-পুস্তক পড়লেই যে শেখা যাবে বা জ্ঞান অর্জিত হবে বিষয়টি এরকম নয়। বরং ব্যক্তি চরিত্র ও অভিজ্ঞতা, পরিবার, সমাজ এবং পারিপার্শ্বিক বিষয়বস্তু গুলোই হচ্ছে শেখার বা শিক্ষা গ্রহণের উপযুক্ত উপকরণ। তবে বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শেখার বা শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকের উপর নির্ভরশীল। এমনকি এই শেখা ও শিক্ষার উদ্দেশ্যও পরিণত হয়েছে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট অর্জন ও চাকুরী পাওয়ার জন্য। যেগুলো আসলে শেখার উদ্দেশ্য হিসেবে কখনোই কাম্য নয়।

এই লেখাটি লিখতে বসে এই মূহুর্তে আমার বাংলা একটি প্রবাদ খুব বেশি মনে পড়ছে, সেটি হলো – ‘পুঁথিগত বিদ্যা আর পর হস্তে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন’। অর্থাৎ পাঠ্যপুস্তকের বিদ্যা হচ্ছে অনেকটা পরের হাতে ধনের ন্যায়। পরের হাতের ধন বা সম্পদ যেমন প্রয়োজনের সময় কাজে আসে না, ঠিক তেমনি পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান যদি প্রয়োজনের সময় কাজে না আসে তাহলে সেই জ্ঞান বা শেখার কোন মূল্য নেই। আর তাই পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানকে পরের হাতে ধন এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। এজন্যই পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও আমাদেরকে শিখতে হবে ব্যক্তি চরিত্র ও অভিজ্ঞতা, পরিবার, সমাজ ও পারিপার্শ্বিক বিষয়বস্তু গুলো থেকে। আর এই জ্ঞান অর্জন বা শেখা হতে হবে ব্যক্তি চরিত্রের উন্নয়ন এবং পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণের জন্য।

বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী Learn শব্দটির বিশেষ্য পদ হচ্ছে শিক্ষা বা Education. ইংরেজিতে যেটাকে Noun হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রকৃতপক্ষে Learn শব্দটির ব্যপকতা এত বেশি যে এই স্বল্প লেখায় যার বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। তারপরও শিক্ষা সম্পর্কে জগৎ বিখ্যাত দুজন মহাব্যক্তির প্রদত্ত সংজ্ঞা উল্লেখ না করলেই নয়। সংজ্ঞা দুইটি নিম্নে তুলে ধরা হলো –
শিক্ষা সম্পর্কে মহাকবি ‘জন মিল্টন’ বলেন, “Education is the harmonious development of body, mind and soul”. অর্থাৎ দেহ, মন ও আত্মার সমন্বিত উন্নয়ন প্রক্রিয়াই হচ্ছে শিক্ষা।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষা সম্পর্কে বলেন, ” মানুষের অভ্যন্তরের মানুষটিকে পরিচর্যা করে খাঁটি মানুষ বানানোর প্রচেষ্টাই শিক্ষা”।

authenticamzad

View all posts

2 comments

Your email address will not be published. Required fields are marked *